শিশুর জিদ ও অতিরিক্ত রাগ কমানোর ৫টি কার্যকর উপায় | Parenting Guide
শিশুর জিদ ও অতিরিক্ত রাগ কমানোর ৫টি কার্যকর উপায় | Parenting Guide
শিশুর জিদ ও রাগ: কেন হয় এবং আমাদের করণীয় কী?
অনেক বাবা-মায়েরই সাধারণ অভিযোগ—"আমার সন্তান খুব জেদি, কোনো কথা শুনতে চায় না।" আসলে শিশুরা জন্মগতভাবে জেদি হয় না। অনেক সময় তাদের মনের কথা বোঝাতে না পেরে বা মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তারা জিদ বা রাগের আশ্রয় নেয়। চিৎকার বা শাসন করে এই জিদ কমানো সম্ভব নয়, বরং প্রয়োজন সঠিক কৌশল।
চলুন জেনে নিই শিশুকে শান্ত করার ৫টি সহজ উপায়:
১. রাগের সময় পাল্টা রাগ দেখাবেন না (Keep Your Calm)
শিশু যখন চিৎকার করে বা জিদ ধরে, তখন আপনি যদি পাল্টা চিৎকার করেন, তবে সে শিখে নেবে যে রাগ করাই সমস্যার সমাধান। ওই মুহূর্তে নিজে শান্ত থাকুন। তাকে শান্ত হতে সময় দিন। সে যখন শান্ত হবে, তখন তাকে আদর করে বোঝান।
২. শিশুর অনুভূতির গুরুত্ব দিন (Validate Their Feelings)
অনেক সময় আমরা বলি, "এতটুকু ছোট বিষয় নিয়ে কান্নার কী আছে?" এটি ভুল। তার কাছে ওই ছোট খেলনা বা বিষয়টিই অনেক বড়। তাকে বলুন, "আমি বুঝতে পারছি তোমার খুব খারাপ লাগছে বা রাগ হচ্ছে।" যখন শিশু দেখবে আপনি তাকে বুঝতে পারছেন, তখন তার জেদ করার প্রবণতা কমে যাবে।
৩. 'না' বলার পরিবর্তে বিকল্প দিন (Offer Choices)
সরাসরি 'না' বললে শিশুদের মধ্যে জেদ বাড়ে। যেমন: শিশুটি চকোলেট খেতে চাইলে না বলে তাকে বলুন, "এখন চকোলেট খেলে দাঁত খারাপ হবে, আমরা কি তার বদলে একটা আপেল বা কলা খেতে পারি?" যখন তাকে অপশন দেবেন, সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে এবং জেদ কম করবে।
শিশুর মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায়
৪. ইতিবাচক আচরণের প্রশংসা করুন (Praise Positive Behavior)
আমরা সাধারণত শিশু যখন খারাপ কিছু করে তখনই বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাই। কিন্তু সে যখন কোনো কথা শোনে বা শান্ত থাকে, তখন আমরা চুপ থাকি। নিয়ম করুন, সে যখনই ভালো কিছু করবে, তাকে জড়িয়ে ধরুন বা প্রশংসা করুন। এতে সে ভালো আচরণ করতে উৎসাহিত হবে।
৫. কোয়ালিটি টাইম বা গুণগত সময় দিন (Quality Time)
অনেক সময় শিশু কেবল বাবা-মায়ের একটু মনোযোগ পাওয়ার জন্য জিদ করে। প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট আপনার সব কাজ সরিয়ে রেখে শুধু তার সাথে খেলুন বা গল্প করুন। তাকে যখন যথেষ্ট সময় দেবেন, তখন সে মানসিকভাবে শান্ত থাকবে।
আরও পড়ুন:
সন্তানের বই পড়ার অভ্যাস গড়বেন কীভাবে? ৫টি জাদুকরী কৌশল
পরিশেষ
আপনার ধৈর্যই পারে একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে। শিশুকে শাসন করে নয়, বরং ভালোবাসা আর বুদ্ধি দিয়ে পরিচালনা করুন। মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশুই আলাদা, তাই তাকে বুঝতে একটু সময় দিন।
.jpg)
.jpg)